Dhaka 10:16 pm, Tuesday, 21 April 2026
শিরোনাম :
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ ট্রাম্পের গ্যাস সংকটে ঢাকা দক্ষিণসহ আশপাশের এলাকা, স্বল্পচাপে ভোগান্তি এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু, অংশ নিচ্ছে ১৮ লাখের বেশি শিক্ষার্থী কিছু রাজনৈতিক দল জনগণকে বিভ্রান্ত করছে: তারেক রহমান নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটে উড়িয়ে দিয়ে সহজ জয়ে সমতা আনল বাংলাদেশ ফরমপূরণে অতিরিক্ত ১৫ হাজার টাকা দিয়েও ২০ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা অনিশ্চিত জামালপুরে অনূর্ধ্ব ১৮ মহিলা ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ট্রফি উন্মোচন রাত পোহালেই এসএসসি পরীক্ষা; গাইবান্ধায় প্রবেশপত্র না পেয়ে মহাসড়কে শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশে গম পাচার মামলায় অভিনেত্রী নুসরাত জাহানকে তলব নরসিংদী-গাজীপুর সংরক্ষিত আসনে সেলিনা সুলতানা বিএনপির মনোনয়ন পেলেন 

হত্যা মামলাকে কেন্দ্র করে আসামিপক্ষের বাড়ি ঘরে হামলা

বাড়ি-ঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে ৩০ পরিবার

নরসিংদী প্রতিনিধি

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চর মধুয়া ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামে একটি হত্যা মামলাকে কেন্দ্র করে আসামিপক্ষের বাড়ি-ঘরে হামলা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আতঙ্কে গ্রামের প্রায় ৩০টি পরিবার বাড়ি-ঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৮ ফেব্রুয়ারি পারিবারিক কলহের জেরে গাজীপুর গ্রামের মো. মঙ্গল মিয়ার ছেলে মো. রফিকুল ইসলাম (৪৮) নিহত হন। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী লাভলী বেগম বাদী হয়ে রায়পুরা থানায় ১৮ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

অভিযোগ রয়েছে, মামলাকে পুঁজি করে বাদীপক্ষের কিছু লোক আমান উল্লাহ আমানের নেতৃত্বে আসামিদের বাড়ি-ঘরে ধারাবাহিকভাবে হামলা চালাচ্ছে। তারা বাড়ি-ঘরে ভাঙচুর, লুটপাট ও চাঁদাবাজি করছে। এ পর্যন্ত অন্তত পাঁচ থেকে ছয়টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৩০টি পরিবারের বাড়িঘরের মালামাল লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, তারা রফিকুল ইসলাম হত্যার সুষ্ঠু বিচার চান। তবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত না থাকা নিরীহ মানুষও এখন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। হামলাকারীরা ঘরে ঢুকে গরু-বাছুর, নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটে নিচ্ছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে অনেক পরিবার বাড়ি-ঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।

ভুক্তভোগী আসমা বেগম বলেন, আমানুল্লাহর নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক হঠাৎ করে আমাদের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং আমার মাকে মারধর করে। ঘরে থাকা প্রায় ৭০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। আমরা নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু বিচার চাই এবং নিজেদের বাড়িতে ফিরে যেতে চাই।

আরেক ভুক্তভোগী সুরাইয়া বেগম আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, আমাদের চারটি গরু নিয়ে গেছে, আমার দুই পুত্রবধূর স্বর্ণালঙ্কারও নিয়ে গেছে। পরে আমাদের ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এখন আমরা কোথায় যাব, কোথায় থাকবো? প্রশাসনের কাছে আমরা সুষ্ঠু বিচার চাই।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আমানুল্লাহ আমান তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রাতে কে বা কারা চাঁদা দাবি করে তা আমার জানা নেই। তারা নিজেদের মালামাল নিজেরাই নিয়ে গেছে, কেউ লুটপাট করেনি।

অন্যদিকে, নিহত রফিকুল ইসলামের স্ত্রী ও ইউপি সদস্য লাভলী বেগম বলেন, প্রধান আসামি পাঁচজন আমার স্বামীকে গাছে বেঁধে গুলি করে হত্যা করেছে। আমি শুধু আমার স্বামীর হত্যার বিচার ও দোষীদের ফাঁসি চাই।

চর মধুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আহসান সিকদার বলেন, রাতের আঁধারে কালো মুখোশ পরা কিছু ব্যক্তি অস্ত্র দেখিয়ে বিভিন্ন বাড়িতে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০টি বাড়ির মালামাল লুটপাট হয়েছে এবং ৫ থেকে ৬টি বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে।

নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন চন্দ্র সরকার বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৮ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। এর মধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

এদিকে হত্যাকাণ্ড ও পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ, নিরাপত্তা জোরদার এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

ইউনি/শাহোরা/

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

News Admin

জনপ্রিয় নিউজ

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ ট্রাম্পের

হত্যা মামলাকে কেন্দ্র করে আসামিপক্ষের বাড়ি ঘরে হামলা

Update Time : 06:12:45 pm, Monday, 16 March 2026

বাড়ি-ঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে ৩০ পরিবার

নরসিংদী প্রতিনিধি

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চর মধুয়া ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামে একটি হত্যা মামলাকে কেন্দ্র করে আসামিপক্ষের বাড়ি-ঘরে হামলা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আতঙ্কে গ্রামের প্রায় ৩০টি পরিবার বাড়ি-ঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৮ ফেব্রুয়ারি পারিবারিক কলহের জেরে গাজীপুর গ্রামের মো. মঙ্গল মিয়ার ছেলে মো. রফিকুল ইসলাম (৪৮) নিহত হন। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী লাভলী বেগম বাদী হয়ে রায়পুরা থানায় ১৮ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

অভিযোগ রয়েছে, মামলাকে পুঁজি করে বাদীপক্ষের কিছু লোক আমান উল্লাহ আমানের নেতৃত্বে আসামিদের বাড়ি-ঘরে ধারাবাহিকভাবে হামলা চালাচ্ছে। তারা বাড়ি-ঘরে ভাঙচুর, লুটপাট ও চাঁদাবাজি করছে। এ পর্যন্ত অন্তত পাঁচ থেকে ছয়টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৩০টি পরিবারের বাড়িঘরের মালামাল লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, তারা রফিকুল ইসলাম হত্যার সুষ্ঠু বিচার চান। তবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত না থাকা নিরীহ মানুষও এখন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। হামলাকারীরা ঘরে ঢুকে গরু-বাছুর, নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটে নিচ্ছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে অনেক পরিবার বাড়ি-ঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।

ভুক্তভোগী আসমা বেগম বলেন, আমানুল্লাহর নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক হঠাৎ করে আমাদের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং আমার মাকে মারধর করে। ঘরে থাকা প্রায় ৭০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। আমরা নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু বিচার চাই এবং নিজেদের বাড়িতে ফিরে যেতে চাই।

আরেক ভুক্তভোগী সুরাইয়া বেগম আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, আমাদের চারটি গরু নিয়ে গেছে, আমার দুই পুত্রবধূর স্বর্ণালঙ্কারও নিয়ে গেছে। পরে আমাদের ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এখন আমরা কোথায় যাব, কোথায় থাকবো? প্রশাসনের কাছে আমরা সুষ্ঠু বিচার চাই।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আমানুল্লাহ আমান তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রাতে কে বা কারা চাঁদা দাবি করে তা আমার জানা নেই। তারা নিজেদের মালামাল নিজেরাই নিয়ে গেছে, কেউ লুটপাট করেনি।

অন্যদিকে, নিহত রফিকুল ইসলামের স্ত্রী ও ইউপি সদস্য লাভলী বেগম বলেন, প্রধান আসামি পাঁচজন আমার স্বামীকে গাছে বেঁধে গুলি করে হত্যা করেছে। আমি শুধু আমার স্বামীর হত্যার বিচার ও দোষীদের ফাঁসি চাই।

চর মধুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আহসান সিকদার বলেন, রাতের আঁধারে কালো মুখোশ পরা কিছু ব্যক্তি অস্ত্র দেখিয়ে বিভিন্ন বাড়িতে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০টি বাড়ির মালামাল লুটপাট হয়েছে এবং ৫ থেকে ৬টি বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে।

নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন চন্দ্র সরকার বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৮ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। এর মধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

এদিকে হত্যাকাণ্ড ও পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ, নিরাপত্তা জোরদার এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

ইউনি/শাহোরা/