বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব যত শেষের দিকে এগোচ্ছে, ততই জমে উঠছে হিসাব-নিকাশ। কেউ লড়ছে শেষ ৩২ নিশ্চিত করতে, কেউ টিকে থাকার জন্য খেলছে বাঁচা-মরার ম্যাচ। আবার অনেক দলের ভাগ্য নির্ভর করছে অন্য ম্যাচের ফলাফলের ওপর।
৪৮ দলের নতুন ফরম্যাটে এবার নকআউটের সমীকরণও বেশ জটিল। ১২টি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল সরাসরি যাবে শেষ ৩২-এ। তাদের সঙ্গে সুযোগ পাবে ১২ গ্রুপের সেরা আটটি তৃতীয় স্থানধারী দল। ফলে গ্রুপে তৃতীয় হয়েও নকআউটে ওঠার সুযোগ থাকছে।
পরিসংখ্যান বলছে, পাঁচ পয়েন্ট সাধারণত নকআউট নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট। চার পয়েন্টেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শেষ ৩২-এ জায়গা পাওয়া সম্ভব। এমনকি তিন পয়েন্ট পাওয়া দলও ভালো গোল ব্যবধানে সেরা তৃতীয় দলগুলোর মধ্যে থাকতে পারে।
ইতোমধ্যে কিছু দল নিজেদের পথ সহজ করে ফেলেছে। স্বাগতিক মেক্সিকো প্রথম দুই ম্যাচ জিতে ছয় পয়েন্ট নিয়ে নকআউট নিশ্চিত করেছে। একই কীর্তি দেখিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রও।
অন্যদিকে কয়েকটি দলের সামনে কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করায় স্পেনের ওপর চাপ বেড়েছে। সৌদি আরব ও উরুগুয়ের বিপক্ষে তাই ভুলের সুযোগ খুব কম। ডিআর কঙ্গোর সঙ্গে ড্র করে চাপে আছে পর্তুগালও।
ব্রাজিলের অবস্থাও পুরোপুরি নিশ্চিন্ত নয়। চার পয়েন্ট নিয়ে তারা গ্রুপের শীর্ষে থাকলেও মরক্কো সমান পয়েন্টে পিছিয়ে আছে কেবল গোল ব্যবধানে। তিন পয়েন্ট নিয়ে এখনও দৌড়ে রয়েছে স্কটল্যান্ডও। ফলে শেষ ম্যাচেই নির্ধারিত হবে গ্রুপটির ভাগ্য।
বিশ্বকাপের ইতিহাস বলে, সবচেয়ে বড় নাটক অনেক সময় জন্ম নেয় গ্রুপ পর্বের শেষ দিনে। একটি গোল বদলে দিতে পারে পুরো সমীকরণ, একটি সেভ ভেঙে দিতে পারে কোটি মানুষের স্বপ্ন। ২০২৬ বিশ্বকাপের নতুন ফরম্যাট সেই নাটকীয়তাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।