সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ডি গ্রুপের তুরস্ক বনাম প্যারাগুয়ের মধ্যে এক শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচ দেখলো বিশ্ব। ম্যাচে মাত্র ৬৫ সেকেন্ড তুরস্কের রক্ষণভাগকে ফাঁকি দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে দেন মাতিয়াস গালারজা। একই সঙ্গে দলটি খেলোয়ার প্যারাগুয়ের মিগুয়েল আলমিরন লাল কার্ড দেখা পেয়ে মাঠ ছাড়েন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের ব্যবধানে তুরস্ককে কাঁপিয়ে জয় ছিনিয়ে নেয় প্যারাগুয়ে।
ধাক্কা সামলে দ্রুত ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে তুরস্ক। কিন্তু গোলের খোঁজে মরিয়া হয়ে ওঠার আগেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় অন্যভাবে। প্রথমার্ধেই প্যারাগুয়ের মিগুয়েল আলমিরন লাল কার্ড দেখলে ১০ জনে নেমে আসে প্যারাগুয়ে। সংখ্যার সুবিধা পেয়ে তখন থেকেই একের পর এক আক্রমণ শুরু করে ভিনসেঞ্জো মন্তেল্লার দল। বল দখলের লড়াই প্রায় একতরফা হয়ে যায়। তুরস্ক ম্যাচের অধিকাংশ সময় নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখে, কিন্তু প্যারাগুয়ের রক্ষণভাগ যেন সেদিন অন্য এক মিশনে নেমেছিল। নিজেদের বক্সের সামনে ঘন মানবপ্রাচীর গড়ে প্রতিপক্ষকে আটকে রাখে তারা।
দ্বিতীয়ার্ধে সেই চিত্র আরও স্পষ্ট হয়। সমতায় ফেরার জন্য তুরস্ক ক্রমেই আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। একের পর এক ক্রস, দূরপাল্লার শট, কর্নার—সবকিছুই দেখা যায় তাদের খেলায়। ম্যাচজুড়ে ১২টি কর্নার আদায় করে তারা। প্রতিপক্ষের বক্সে অসংখ্যবার বল নিয়ে ঢোকে। গোলের উদ্দেশ্যে নেয় ৩২টি শট।
কিন্তু গোললাইন পার করানোই যখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, তখন সামনে এসে দাঁড়ান প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক জিল। তার সঙ্গে যোগ দেন ডিফেন্ডাররাও। কেউ শরীর ছুঁড়ে দেন শটের সামনে, কেউ শেষ মুহূর্তে ক্লিয়ার করেন বিপজ্জনক বল। ম্যাচের ৮৫তম মিনিটে তুরস্ক প্রায় গোল পেয়ে গিয়েছিল। গোললাইন থেকে ডিফেন্ডার গোমেজের গুরুত্বপূর্ণ হস্তক্ষেপ প্যারাগুয়েকে রক্ষা করে। চার মিনিট পর আবার সুযোগ আসে। জিল বল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে না পারলেও ফিরতি সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন দিনুজ গুল।
যোগ করা সময়েও নাটক থামেনি। ৯৭তম মিনিটে ডেমিরালের হেড পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়। এরপর অধিনায়ক হাকান কালহানোগলুর জোরালো প্রচেষ্টাও লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে তুরস্কের আশা কার্যত শেষ হয়ে যায়।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই দুই দলের দুই রকম ছবি ফুটে ওঠে। তুরস্কের খেলোয়াড়দের অনেকেই হতাশায় মাঠেই বসে পড়েন। কারও চোখে জল, কারও মুখে অবিশ্বাস। অন্যদিকে ১০ জন নিয়ে প্রায় পুরো ম্যাচ লড়ে যাওয়া প্যারাগুয়ের ফুটবলাররা উল্লাসে মেতে ওঠেন।
গোলদাতা গালারজা অবশ্য তখন মাঠে ছিলেন না। চোটের কারণে আগেই উঠে যেতে হয়েছিল তাকে। কিন্তু স্ট্রেচারে শুয়েই সতীর্থদের উচ্ছ্বাস দেখছিলেন তিনি। তার ৬৫ সেকেন্ডের গোলই যে শেষ পর্যন্ত প্যারাগুয়ের জন্য হয়ে উঠেছে অমূল্য সম্পদ।
‘ডি’ গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে তুরস্ককে ১-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের নকআউট স্বপ্ন জিইয়ে রাখল প্যারাগুয়ে। অন্যদিকে দুই ম্যাচে টানা দ্বিতীয় হারে হাইতির পর দ্বিতীয় দল হিসেবে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে চলে এসেছে তুরস্কক! যদিও কাগজে-কলমে এখনও তাদের আশা টিকে আছে এবং সেটা খুবই সম্ভব যদি পরের ম্যাচে তারা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কমপক্ষে ২-০ ব্যবধানে জিতে এবং প্যারাগুয়ে যুক্তরাষ্টের বিপক্ষে হারে।