Dhaka 8:50 pm, Tuesday, 21 April 2026
শিরোনাম :
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ ট্রাম্পের গ্যাস সংকটে ঢাকা দক্ষিণসহ আশপাশের এলাকা, স্বল্পচাপে ভোগান্তি এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু, অংশ নিচ্ছে ১৮ লাখের বেশি শিক্ষার্থী কিছু রাজনৈতিক দল জনগণকে বিভ্রান্ত করছে: তারেক রহমান নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটে উড়িয়ে দিয়ে সহজ জয়ে সমতা আনল বাংলাদেশ ফরমপূরণে অতিরিক্ত ১৫ হাজার টাকা দিয়েও ২০ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা অনিশ্চিত জামালপুরে অনূর্ধ্ব ১৮ মহিলা ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ট্রফি উন্মোচন রাত পোহালেই এসএসসি পরীক্ষা; গাইবান্ধায় প্রবেশপত্র না পেয়ে মহাসড়কে শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশে গম পাচার মামলায় অভিনেত্রী নুসরাত জাহানকে তলব নরসিংদী-গাজীপুর সংরক্ষিত আসনে সেলিনা সুলতানা বিএনপির মনোনয়ন পেলেন 

মায়ের কবরের পাশে বসে শিশুর কান্না, সৎ মাকে সতর্ক করলেন ইউএনও

লাকসাম প্রতিনিধি

সৎ মায়ের নির্যাতনের শিকার এক শিশু তার মায়ের কবরের পাশে বসে কাঁদছে, এমনই একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ ভিডিওটি অনেকের হৃদয়কে ছুঁয়েছে। সেই সৎ মাকে নিয়ে প্রবল সমালোচনা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিজ কার্যালয়ে সেই সৎ মাকে ডেকে সতর্ক করেছেন। শিশুটির বাড়ি কুমিল্লার লালমাই উপজেলায়।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল ১১টায় ওই শিশু ও তার সৎ মাকে ইউএনও কার্যালয়ে হাজির করা হয়। সৎ মা দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এবং ভবিষ্যতে শিশুটির ওপর আর নির্যাতন করবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

১২ বছর বয়সী ছামিয়া আক্তার লালমাই উপজেলার পোহনকুছা পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা। প্রায় চার বছর আগে তার মা মারা যান। এর পর তার বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। তিনি বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। বাবার অনুপস্থিতিতে শিশুটি সৎ মা আয়েশা আক্তারের সঙ্গে বসবাস করতে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ওই শিশুকে প্রায়ই মারধর করতেন তার সৎ মা। এমনকি সম্প্রতি টানা দুই দিন ঘরের ভেতরে বেঁধে রেখে নির্যাতন করা হয়। এ বিষয়ে বাবাকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুটি মায়ের কবরের পাশে বসে কাঁদতে কাঁদতে বলছে, “আমারে কেন আপনার সঙ্গে নিয়ে গেলেন না। আম্মু গো আমি আসছি। আম্মু গো বের হও। আমারে নিয়ে যেতে পারেন নাই? কেন রেখে গেলেন? মা, আমাকে নিয়ে যাও।”

হৃদয়বিদারক এ ভিডিও দ্রুতই নেটিজেনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং জনমনে ব্যাপক সহানুভূতির সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পরপরই লালমাই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে তাহমিনা মিতু বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেন এবং তদন্তের নির্দেশ দেন। তিনি বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. লোকমান হোসেনকে তদন্তের দায়িত্ব দেন।

ইউএনও উম্মে তাহমিনা মিতু বলেছেন, “শিশুটির সৎ মা আয়েশা আক্তারকে এক মাসের জন্য সতর্কতামূলক সময় দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে পুনরায় এমন অভিযোগ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. লোকমান হোসেন বলেছেন, “ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হয়েছে। শিশুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয়ভাবে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।”

ইউএনও কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন লালমাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

প্রশাসনের এমন দ্রুত পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। একইসঙ্গে শিশুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের ধারাবাহিক নজরদারির দাবি জানিয়েছেন তারা।

ইউনি/শাহোরা/আরস্ব/

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

News Admin

জনপ্রিয় নিউজ

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ ট্রাম্পের

মায়ের কবরের পাশে বসে শিশুর কান্না, সৎ মাকে সতর্ক করলেন ইউএনও

Update Time : 05:13:16 pm, Tuesday, 24 March 2026

লাকসাম প্রতিনিধি

সৎ মায়ের নির্যাতনের শিকার এক শিশু তার মায়ের কবরের পাশে বসে কাঁদছে, এমনই একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ ভিডিওটি অনেকের হৃদয়কে ছুঁয়েছে। সেই সৎ মাকে নিয়ে প্রবল সমালোচনা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিজ কার্যালয়ে সেই সৎ মাকে ডেকে সতর্ক করেছেন। শিশুটির বাড়ি কুমিল্লার লালমাই উপজেলায়।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল ১১টায় ওই শিশু ও তার সৎ মাকে ইউএনও কার্যালয়ে হাজির করা হয়। সৎ মা দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এবং ভবিষ্যতে শিশুটির ওপর আর নির্যাতন করবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

১২ বছর বয়সী ছামিয়া আক্তার লালমাই উপজেলার পোহনকুছা পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা। প্রায় চার বছর আগে তার মা মারা যান। এর পর তার বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। তিনি বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। বাবার অনুপস্থিতিতে শিশুটি সৎ মা আয়েশা আক্তারের সঙ্গে বসবাস করতে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ওই শিশুকে প্রায়ই মারধর করতেন তার সৎ মা। এমনকি সম্প্রতি টানা দুই দিন ঘরের ভেতরে বেঁধে রেখে নির্যাতন করা হয়। এ বিষয়ে বাবাকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুটি মায়ের কবরের পাশে বসে কাঁদতে কাঁদতে বলছে, “আমারে কেন আপনার সঙ্গে নিয়ে গেলেন না। আম্মু গো আমি আসছি। আম্মু গো বের হও। আমারে নিয়ে যেতে পারেন নাই? কেন রেখে গেলেন? মা, আমাকে নিয়ে যাও।”

হৃদয়বিদারক এ ভিডিও দ্রুতই নেটিজেনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং জনমনে ব্যাপক সহানুভূতির সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পরপরই লালমাই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে তাহমিনা মিতু বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেন এবং তদন্তের নির্দেশ দেন। তিনি বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. লোকমান হোসেনকে তদন্তের দায়িত্ব দেন।

ইউএনও উম্মে তাহমিনা মিতু বলেছেন, “শিশুটির সৎ মা আয়েশা আক্তারকে এক মাসের জন্য সতর্কতামূলক সময় দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে পুনরায় এমন অভিযোগ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. লোকমান হোসেন বলেছেন, “ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হয়েছে। শিশুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয়ভাবে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।”

ইউএনও কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন লালমাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

প্রশাসনের এমন দ্রুত পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। একইসঙ্গে শিশুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের ধারাবাহিক নজরদারির দাবি জানিয়েছেন তারা।

ইউনি/শাহোরা/আরস্ব/