Dhaka 6:22 am, Friday, 1 May 2026
শিরোনাম :
মামলার জট কমাতে সরকার বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছে : আইনমন্ত্রী ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নৌ অবরোধ উপসাগরীয় অঞ্চলে বিঘ্ন আরও বাড়াবে। তবে এর লক্ষ্য পূরণ হবে না। তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘সমুদ্রপথে অবরোধ বা বিধিনিষেধ আরোপের যেকোনো চেষ্টা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং তা ব্যর্থ হবেই।’ তিনি আরও বলেন, এ ধরণের পদক্ষেপ ‘আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার করতে ব্যর্থই হবে না, বরং পারস্য উপসাগরে উত্তেজনা সৃষ্টি করবে এবং স্থায়ী স্থিতিশীলতা ব্যাহত করবে।’ নিজের প্রাক্তন কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বিনিময় বেবিচক সদর দপ্তরে আকস্মিক অগ্নিনির্বাপন মহড়া: প্রস্তুতি ও তৎপরতা যাচাই করলেন চেয়ারম্যান শামসুল আলম নামে আরো এক হজযাত্রীর মৃত্যু প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর সাথে সিঙ্গাপুরের চার্জ দ্য এফেয়ার্সের সাক্ষাৎ ঢাকা শহরকে নিজের আঙিনার মতো করে সাজাতে চাই: ডিএসসিসি প্রশাসক হিট প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে ইউজিসিকে শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য আসন্ন বাজেটে তামাকপণ্যে কার্যকর কর ও মূল্য বৃদ্ধির দাবি ঢাকা শহরের হকার ব্যবস্থাপনায় নতুন মাইলফলক: ডিএসসিসিতে আধুনিক হকার পুনর্বাসন কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন

মামলার জট কমাতে সরকার বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছে : আইনমন্ত্রী

দেশে মামলার জট কমানো এবং বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত ও কার্যকর করতে সরকার স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

আজ সংসদে নোয়াখালী-১ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য এ. এম. মাহবুব উদ্দিনের টেবিলে উত্থাপিত তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, বিচারব্যবস্থাকে আধুনিক ও গতিশীল করতে চলতি অধিবেশনেই গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রক্রিয়াগত আইনের সংশোধন পাস করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দেওয়ানি কার্যবিধি (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এ এসএমএস ও ভয়েস কলের মাধ্যমে সমন জারি, হলফনামার মাধ্যমে লিখিত জবাব দাখিল, সরাসরি জেরা গ্রহণ এবং একই মামলার মধ্যেই ডিক্রি বাস্তবায়নের আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে, আলাদা এক্সিকিউশন মামলা করার প্রয়োজন থাকবে না।

এছাড়া, ‘ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এ অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব কমাতে বিভিন্ন প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে পলাতক আসামির বিরুদ্ধে প্রচলিত কিছু ধাপ (প্রোক্লেমেশন ও অ্যাটাচমেন্ট) এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে সমন জারির বিধান রাখা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি আইন ২০২০ অনুযায়ী এখন তদন্ত কর্মকর্তা, চিকিৎসক এবং জবানবন্দি গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেটদের সাক্ষ্য অনলাইনে গ্রহণ করা হচ্ছে, ফলে সাক্ষীদের শারীরিক উপস্থিতি ছাড়াই দ্রুত বিচার সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে।

বিচারকদের ওপর চাপ কমাতে পৃথক বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে ৮৭১টি আদালত ও ২৩২টি বিচারক পদ সৃষ্টি করা হয়েছে এবং আরো ৩০৪টি বিচারক পদ সৃষ্টির প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি ১৫০ জন সহকারী জজ এবং ১ হাজার ২০০ জনের বেশি বিচারিক কর্মচারী নিয়োগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

তিনি জানান, আইনগত সহায়তা সেবা (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর মাধ্যমে কিছু ক্ষেত্রে মামলা দায়েরের আগে বাধ্যতামূলকভাবে মধ্যস্থতার (মেডিয়েশন) ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যা পরীক্ষামূলক জেলাগুলোতে মামলার সংখ্যা কমাতে সহায়ক হয়েছে।

বিনামূল্যে আইনগত সহায়তা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে হটলাইন (১৬৬৯৯), অনলাইন সেবা এবং প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সহায়তা চালু করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ২৩টি জেলায় প্রধান বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে এবং অন্যান্য জেলাতেও সুবিধা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

ডিজিটাল উদ্যোগের বিষয়ে তিনি জানান, ১৬টি জেলায় ইতোমধ্যে ই-বেইল বন্ড চালু হয়েছে, ঢাকা ও চট্টগ্রামে ই-ফ্যামিলি কোর্ট কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং অনলাইনে কজলিস্ট প্রকাশের ব্যবস্থা চালু হয়েছে, যা স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়িয়েছে।

এছাড়া, সব জেলা জজ ও প্রধান বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে তথ্য ও সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যাতে বিচারপ্রার্থীরা সহজে সেবা পান।

তিনি আরো বলেন, ডিজিটাল বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন এবং পূর্ণাঙ্গ ‘ই-জুডিশিয়ারি’ ব্যবস্থা চালুর কাজ চলমান রয়েছে।

আইনজীবীদের মানোন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনারস অ্যান্ড বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২ সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এসব সমন্বিত উদ্যোগের ফলে ধীরে ধীরে মামলার জট কমবে এবং নাগরিকরা দ্রুত, স্বচ্ছ ও ব্যয় সাশ্রয়ী বিচারসেবা পাবেন।

 

সূত্র:বাসস

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

News Admin

জনপ্রিয় নিউজ

মামলার জট কমাতে সরকার বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছে : আইনমন্ত্রী

মামলার জট কমাতে সরকার বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছে : আইনমন্ত্রী

Update Time : 04:11:07 pm, Thursday, 30 April 2026

দেশে মামলার জট কমানো এবং বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত ও কার্যকর করতে সরকার স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

আজ সংসদে নোয়াখালী-১ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য এ. এম. মাহবুব উদ্দিনের টেবিলে উত্থাপিত তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, বিচারব্যবস্থাকে আধুনিক ও গতিশীল করতে চলতি অধিবেশনেই গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রক্রিয়াগত আইনের সংশোধন পাস করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দেওয়ানি কার্যবিধি (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এ এসএমএস ও ভয়েস কলের মাধ্যমে সমন জারি, হলফনামার মাধ্যমে লিখিত জবাব দাখিল, সরাসরি জেরা গ্রহণ এবং একই মামলার মধ্যেই ডিক্রি বাস্তবায়নের আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে, আলাদা এক্সিকিউশন মামলা করার প্রয়োজন থাকবে না।

এছাড়া, ‘ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এ অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব কমাতে বিভিন্ন প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে পলাতক আসামির বিরুদ্ধে প্রচলিত কিছু ধাপ (প্রোক্লেমেশন ও অ্যাটাচমেন্ট) এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে সমন জারির বিধান রাখা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি আইন ২০২০ অনুযায়ী এখন তদন্ত কর্মকর্তা, চিকিৎসক এবং জবানবন্দি গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেটদের সাক্ষ্য অনলাইনে গ্রহণ করা হচ্ছে, ফলে সাক্ষীদের শারীরিক উপস্থিতি ছাড়াই দ্রুত বিচার সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে।

বিচারকদের ওপর চাপ কমাতে পৃথক বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে ৮৭১টি আদালত ও ২৩২টি বিচারক পদ সৃষ্টি করা হয়েছে এবং আরো ৩০৪টি বিচারক পদ সৃষ্টির প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি ১৫০ জন সহকারী জজ এবং ১ হাজার ২০০ জনের বেশি বিচারিক কর্মচারী নিয়োগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

তিনি জানান, আইনগত সহায়তা সেবা (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর মাধ্যমে কিছু ক্ষেত্রে মামলা দায়েরের আগে বাধ্যতামূলকভাবে মধ্যস্থতার (মেডিয়েশন) ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যা পরীক্ষামূলক জেলাগুলোতে মামলার সংখ্যা কমাতে সহায়ক হয়েছে।

বিনামূল্যে আইনগত সহায়তা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে হটলাইন (১৬৬৯৯), অনলাইন সেবা এবং প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সহায়তা চালু করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ২৩টি জেলায় প্রধান বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে এবং অন্যান্য জেলাতেও সুবিধা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

ডিজিটাল উদ্যোগের বিষয়ে তিনি জানান, ১৬টি জেলায় ইতোমধ্যে ই-বেইল বন্ড চালু হয়েছে, ঢাকা ও চট্টগ্রামে ই-ফ্যামিলি কোর্ট কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং অনলাইনে কজলিস্ট প্রকাশের ব্যবস্থা চালু হয়েছে, যা স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়িয়েছে।

এছাড়া, সব জেলা জজ ও প্রধান বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে তথ্য ও সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যাতে বিচারপ্রার্থীরা সহজে সেবা পান।

তিনি আরো বলেন, ডিজিটাল বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন এবং পূর্ণাঙ্গ ‘ই-জুডিশিয়ারি’ ব্যবস্থা চালুর কাজ চলমান রয়েছে।

আইনজীবীদের মানোন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনারস অ্যান্ড বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২ সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এসব সমন্বিত উদ্যোগের ফলে ধীরে ধীরে মামলার জট কমবে এবং নাগরিকরা দ্রুত, স্বচ্ছ ও ব্যয় সাশ্রয়ী বিচারসেবা পাবেন।

 

সূত্র:বাসস