Dhaka 6:18 am, Friday, 17 April 2026

ধর্মীয় বিভাজন নয়, নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

ধর্ম, বর্ণ বা লিঙ্গ পরিচয়ে নাগরিকদের মধ্যে কোনো ধরনের বিভাজন করতে দেবে না সরকার বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’ এই মূলনীতির আলোকেই বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার একটি বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ে তুলতে চায়।

ঢাকার তেজগাঁওয়ে হলি রোজারী চার্চ ক্যাম্পাসের মাদার তেরেসা ভবনে শনিবার এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকার গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলার খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে ‘গৌরনদী খ্রিষ্টান কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেড’ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, “অতীতে যারা ধর্মের নামে বা বিশেষ কোনো গোষ্ঠীর নামে রাষ্ট্র ও সমাজ দখল করতে চেয়েছে, তাদের দ্বারা গণতন্ত্র চর্চা সম্ভব নয়।

“পৃথিবীর যেখানেই ধর্মের নামে শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হয়েছে, সেখানেই গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হয়েছে। আমাদের নেতা তারেক রহমান ঘোষিত নির্বাচনি ইশতেহারে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, রাষ্ট্র কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকদের অধিকারের তারতম্য করবে না”।

তিনি বলেন, “কে হিন্দু, কে মুসলিম, কে খ্রিষ্টান বা কে পাহাড়ি এই পরিচয়ে কাউকে ছোট বা বড় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার সমান এবং আমাদের সরকার সেই অধিকার সুরক্ষা ও বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ”।

নিজ নির্বাচনি এলাকার বৈচিত্র্যের কথা উল্লেখ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া এলাকায় হিন্দু, মুসলিম ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায় দীর্ঘকাল ধরে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করছে। মাঝেমধ্যে স্বার্থান্বেষী মহল বিভাজন তৈরির অপচেষ্টা চালালেও সজাগ জনগণের কারণে তারা সফল হয়নি।

“যারা মুখে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে পর্দার আড়ালে ভিন্ন রাজনীতি করে, জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে”।

অনুষ্ঠানে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা মন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “তার নেতৃত্বের কারণে আগৈলঝাড়ায় খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের নির্যাতনের শিকার হননি”।

বক্তারা এ সময় ‘ইস্টার সানডে’ উপলক্ষ্যে সরকারি ছুটির দাবি জানান এবং তাদের বিভিন্ন স্থানীয় সমস্যা সমাধানে মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

মন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, “যিনি যত বেশি সংখ্যালঘু, তার প্রতি আমার দায়িত্ব ও অগ্রাধিকার তত বেশি। আপনাদের আস্থার মর্যাদা আমি আমৃত্যু রক্ষা করব”।

সংবর্ধনা সভার আহ্বায়ক সিলভাস্টার সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন তেজগাঁও খ্রিষ্টান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি স্বপন হালদার, সংগঠক ফ্রান্সিস ঢাকি, সাবেক ছাত্রনেতা মহিউদ্দিন বাদশা এবং আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এ্যাসেন্ট রায় প্রমুখ।

ইউনি/শাহোরা/

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

News Admin

জনপ্রিয় নিউজ

ধর্মীয় বিভাজন নয়, নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য: তথ্যমন্ত্রী

Update Time : 08:33:49 pm, Saturday, 11 April 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক

ধর্ম, বর্ণ বা লিঙ্গ পরিচয়ে নাগরিকদের মধ্যে কোনো ধরনের বিভাজন করতে দেবে না সরকার বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’ এই মূলনীতির আলোকেই বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার একটি বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ে তুলতে চায়।

ঢাকার তেজগাঁওয়ে হলি রোজারী চার্চ ক্যাম্পাসের মাদার তেরেসা ভবনে শনিবার এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকার গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলার খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে ‘গৌরনদী খ্রিষ্টান কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেড’ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, “অতীতে যারা ধর্মের নামে বা বিশেষ কোনো গোষ্ঠীর নামে রাষ্ট্র ও সমাজ দখল করতে চেয়েছে, তাদের দ্বারা গণতন্ত্র চর্চা সম্ভব নয়।

“পৃথিবীর যেখানেই ধর্মের নামে শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হয়েছে, সেখানেই গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হয়েছে। আমাদের নেতা তারেক রহমান ঘোষিত নির্বাচনি ইশতেহারে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, রাষ্ট্র কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকদের অধিকারের তারতম্য করবে না”।

তিনি বলেন, “কে হিন্দু, কে মুসলিম, কে খ্রিষ্টান বা কে পাহাড়ি এই পরিচয়ে কাউকে ছোট বা বড় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার সমান এবং আমাদের সরকার সেই অধিকার সুরক্ষা ও বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ”।

নিজ নির্বাচনি এলাকার বৈচিত্র্যের কথা উল্লেখ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া এলাকায় হিন্দু, মুসলিম ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায় দীর্ঘকাল ধরে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করছে। মাঝেমধ্যে স্বার্থান্বেষী মহল বিভাজন তৈরির অপচেষ্টা চালালেও সজাগ জনগণের কারণে তারা সফল হয়নি।

“যারা মুখে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে পর্দার আড়ালে ভিন্ন রাজনীতি করে, জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে”।

অনুষ্ঠানে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা মন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “তার নেতৃত্বের কারণে আগৈলঝাড়ায় খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের নির্যাতনের শিকার হননি”।

বক্তারা এ সময় ‘ইস্টার সানডে’ উপলক্ষ্যে সরকারি ছুটির দাবি জানান এবং তাদের বিভিন্ন স্থানীয় সমস্যা সমাধানে মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

মন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, “যিনি যত বেশি সংখ্যালঘু, তার প্রতি আমার দায়িত্ব ও অগ্রাধিকার তত বেশি। আপনাদের আস্থার মর্যাদা আমি আমৃত্যু রক্ষা করব”।

সংবর্ধনা সভার আহ্বায়ক সিলভাস্টার সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন তেজগাঁও খ্রিষ্টান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি স্বপন হালদার, সংগঠক ফ্রান্সিস ঢাকি, সাবেক ছাত্রনেতা মহিউদ্দিন বাদশা এবং আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এ্যাসেন্ট রায় প্রমুখ।

ইউনি/শাহোরা/