দেশজুড়ে জ্বালানি সংকটের মধ্যে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পেট্রোলপাম্পগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও তেল না পেলেও, সরকার দেশীয় উৎপাদিত অকটেন ও পেট্রোল গ্রহণ করছে না—এমন অভিযোগ উঠেছে।
তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) প্রায় ১০ দিন আগে স্থানীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকটেন ও পেট্রোল সরবরাহ বন্ধ রাখতে চিঠি দেয়। এতে করে বেসরকারি কোম্পানিগুলো বিপাকে পড়েছে এবং উৎপাদন বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কেন নিচ্ছে না অকটেন?
সরকারি সূত্র বলছে—
- ডিপোগুলোতে অকটেন সংরক্ষণের জায়গা নেই
- বর্তমানে মজুত সক্ষমতা (৫৩ হাজার টন) ছাড়িয়ে প্রায় ৫৫ হাজার টন অকটেন জমা আছে
- নতুন করে জাহাজে করে আরও অকটেন আসায় সংকট বেড়েছে
কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন
অন্যদিকে বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে—
- পাম্পে ৭–১২ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও মানুষ তেল পাচ্ছে না
- ১–২ কিলোমিটার দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে
- রেশনিংয়ের কারণে সরবরাহ কমে গেছে
বিশেষজ্ঞদের মতামত
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি সরবরাহ ব্যবস্থাপনার বড় ধরনের ব্যর্থতা।
বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেনের মতে,
“দেশে উৎপাদন থাকা সত্ত্বেও যদি মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল না পায়, তাহলে সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় সমস্যা রয়েছে।”
দেশীয় প্রতিষ্ঠানের সংকট
দেশে মোট চাহিদার প্রায় ৭৫% পূরণ করে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো। এর মধ্যে বড় অংশ জোগান দেয় Super Petrochemical PLC।
কিন্তু অভিযোগ উঠেছে—
- বিপিসি প্রতিশ্রুতি দিয়েও তেল নিচ্ছে না
- ট্যাংকারগুলো উপচে পড়ছে
- উৎপাদন বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে
সরকারের অবস্থান
বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী জানিয়েছেন—
- বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে
- দেশীয় উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছেন
বড় কারণ কী?
বিপিসির কর্মকর্তারা বলছেন—
- আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেশি
- বেশি দামে কিনে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে
- এতে প্রতিদিন শতকোটি টাকা লোকসান হচ্ছে
ডিজেলে স্বস্তির আভাস
ভালো খবর হলো—
- দেশে ডিজেলের মজুত ১ লাখ টনের বেশি
- চলতি মাসে মোট ৪ লাখ ৭২ হাজার টন ডিজেল আসছে
- সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে
Reporter Name 






















