চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই ’২৫–মার্চ ’২৬) রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতির মুখে পড়েছে সরকার। এ সময়ে রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৭ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের পুরো সময়ের ঘাটতির চেয়েও বেশি।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৮৬২ কোটি টাকা। অথচ এই সময়ের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা।
এর আগে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৮ মাসে ঘাটতি ছিল ৭১ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। অর্থাৎ মাত্র এক মাসে ঘাটতি বেড়েছে ২৬ হাজার কোটির বেশি। মার্চ মাসে এককভাবে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব আদায় কম হয়েছে প্রায় সাড়ে ২৬ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া গত বছরের একই মাসের তুলনায় মার্চে আদায় বেড়েছে মাত্র ২ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ঘাটতি হয়েছে আয়কর খাতে। ৯ মাসে ১ লাখ ৩৯ হাজার ১১৮ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৯৮ হাজার ৫০১ কোটি টাকা, ফলে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার ৬১৭ কোটি টাকা।
ভ্যাট খাতে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১ লাখ ৯ হাজার ১৩৮ কোটি টাকা—এ খাতে ঘাটতি ৩৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। অন্যদিকে, কাস্টমস খাতে ১ লাখ ৩ হাজার ১৯৬ কোটি টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৮০ হাজার ২২৩ কোটি টাকা, যেখানে ঘাটতি ২২ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকা।
তবে রাজস্ব আদায়ে সামগ্রিকভাবে কিছু প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক খাতে যথাক্রমে ১১ দশমিক ২৫ শতাংশ, ১৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ এবং ৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় এই রাজস্ব ঘাটতি দেশের বাজেট বাস্তবায়ন ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি করতে পারে।
Reporter Name 





















