Dhaka 9:16 pm, Tuesday, 21 April 2026
শিরোনাম :
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ ট্রাম্পের গ্যাস সংকটে ঢাকা দক্ষিণসহ আশপাশের এলাকা, স্বল্পচাপে ভোগান্তি এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু, অংশ নিচ্ছে ১৮ লাখের বেশি শিক্ষার্থী কিছু রাজনৈতিক দল জনগণকে বিভ্রান্ত করছে: তারেক রহমান নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটে উড়িয়ে দিয়ে সহজ জয়ে সমতা আনল বাংলাদেশ ফরমপূরণে অতিরিক্ত ১৫ হাজার টাকা দিয়েও ২০ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা অনিশ্চিত জামালপুরে অনূর্ধ্ব ১৮ মহিলা ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ট্রফি উন্মোচন রাত পোহালেই এসএসসি পরীক্ষা; গাইবান্ধায় প্রবেশপত্র না পেয়ে মহাসড়কে শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশে গম পাচার মামলায় অভিনেত্রী নুসরাত জাহানকে তলব নরসিংদী-গাজীপুর সংরক্ষিত আসনে সেলিনা সুলতানা বিএনপির মনোনয়ন পেলেন 

প্রধানমন্ত্রীর ‘ক্রীড়া কার্ড’ পেয়ে আবেগাপ্লুত খেলোয়াড়রা

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে যুক্ত হলো এক অভূতপূর্ব মাইলফলক। দীর্ঘদিনের অবহেলা আর আর্থিক অনিশ্চয়তা পেছনে ফেলে দেশের খেলোয়াড়রা এখন থেকে সরকারি বেতন কাঠামোর গর্বিত অংশ। ‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’— এই বৈপ্লবিক স্লোগানকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গতকাল ১২৯ জন কৃতী খেলোয়াড়ের হাতে তুলে দিয়েছেন বহু প্রতীক্ষিত ‘ক্রীড়া কার্ড’।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে কেবল সম্মাননাই নয়, বরং অ্যাথলেটদের জন্য নিশ্চিত করা হয়েছে মাসিক ১ লাখ টাকা সম্মানী, যা সরাসরি তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী ল্যাপটপের বাটন চেপে এই আধুনিক ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমের উদ্বোধন করেন। প্রাথমিক পর্যায়ে ২০টি ডিসিপ্লিনের খেলোয়াড়দের মাঝে ২ কোটি ৪৪ লাখ টাকার আর্থিক পুরস্কার ও ভাতা তুলে দেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে ৫০০ জন খেলোয়াড়কে এই সুবিধার আওতায় আনা হবে।

সাফ জয়ী নারী ফুটসাল দল থেকে শুরু করে কাবাডি, ভলিবল, আরচারি, ব্যাডমিন্টন, সেপাক টাকরো এবং প্যারা-অ্যাথলেটদেরও এই তালিকায় রাখা হয়েছে। ক্রিকেট বোর্ড স্বনির্ভর হওয়ায় ক্রিকেটাররা এই কাঠামোর বাইরে থাকলেও, অন্যান্য অবহেলিত খেলার মানোন্নয়নে সরকারের এই পদক্ষেপকে ঐতিহাসিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে এই উপহার পেয়ে আবেগাপ্লুত অ্যাথলেটরা। নারী ফুটসাল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন বলেন, এটি আমাদের জন্য বিশাল এক সারপ্রাইজ। এখন খেলোয়াড়রা চোখ বন্ধ করে খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে নিতে পারবে। তবে এই সম্মান ধরে রাখা আমাদের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

টেবিল টেনিস তারকা খই খই সাই মারমা তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, কখনও ভাবিনি মাসে এক লাখ টাকা ভাতা পাব। এটি পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে প্রতি চার মাস অন্তর পরিবর্তিত হবে, যা খেলোয়াড়দের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি করবে। অন্যদিকে, স্বর্ণজয়ী প্যারা-সাঁতারু মো. শহিদুল্লাহ বলেন, সরকার আমাদের মতো শারীরিক প্রতিবন্ধী খেলোয়াড়দের কষ্ট বুঝতে পেরেছে, এটি আমাদের জন্য অনেক গর্বের।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, ক্রীড়াবিদদের সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ‘ক্রীড়া কার্ড’ একটি শক্তিশালী ঢাল হিসেবে কাজ করবে।

এই উদ্যোগের ফলে দেশের তরুণ প্রজন্ম এখন অনিশ্চয়তা কাটিয়ে খেলাধুলায় আরও বেশি আগ্রহী হবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সাফল্যের পথ প্রশস্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইউনি/শাহোরা/

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

News Admin

জনপ্রিয় নিউজ

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ ট্রাম্পের

প্রধানমন্ত্রীর ‘ক্রীড়া কার্ড’ পেয়ে আবেগাপ্লুত খেলোয়াড়রা

Update Time : 07:25:38 pm, Tuesday, 31 March 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে যুক্ত হলো এক অভূতপূর্ব মাইলফলক। দীর্ঘদিনের অবহেলা আর আর্থিক অনিশ্চয়তা পেছনে ফেলে দেশের খেলোয়াড়রা এখন থেকে সরকারি বেতন কাঠামোর গর্বিত অংশ। ‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’— এই বৈপ্লবিক স্লোগানকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গতকাল ১২৯ জন কৃতী খেলোয়াড়ের হাতে তুলে দিয়েছেন বহু প্রতীক্ষিত ‘ক্রীড়া কার্ড’।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে কেবল সম্মাননাই নয়, বরং অ্যাথলেটদের জন্য নিশ্চিত করা হয়েছে মাসিক ১ লাখ টাকা সম্মানী, যা সরাসরি তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী ল্যাপটপের বাটন চেপে এই আধুনিক ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমের উদ্বোধন করেন। প্রাথমিক পর্যায়ে ২০টি ডিসিপ্লিনের খেলোয়াড়দের মাঝে ২ কোটি ৪৪ লাখ টাকার আর্থিক পুরস্কার ও ভাতা তুলে দেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে ৫০০ জন খেলোয়াড়কে এই সুবিধার আওতায় আনা হবে।

সাফ জয়ী নারী ফুটসাল দল থেকে শুরু করে কাবাডি, ভলিবল, আরচারি, ব্যাডমিন্টন, সেপাক টাকরো এবং প্যারা-অ্যাথলেটদেরও এই তালিকায় রাখা হয়েছে। ক্রিকেট বোর্ড স্বনির্ভর হওয়ায় ক্রিকেটাররা এই কাঠামোর বাইরে থাকলেও, অন্যান্য অবহেলিত খেলার মানোন্নয়নে সরকারের এই পদক্ষেপকে ঐতিহাসিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে এই উপহার পেয়ে আবেগাপ্লুত অ্যাথলেটরা। নারী ফুটসাল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন বলেন, এটি আমাদের জন্য বিশাল এক সারপ্রাইজ। এখন খেলোয়াড়রা চোখ বন্ধ করে খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে নিতে পারবে। তবে এই সম্মান ধরে রাখা আমাদের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

টেবিল টেনিস তারকা খই খই সাই মারমা তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, কখনও ভাবিনি মাসে এক লাখ টাকা ভাতা পাব। এটি পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে প্রতি চার মাস অন্তর পরিবর্তিত হবে, যা খেলোয়াড়দের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি করবে। অন্যদিকে, স্বর্ণজয়ী প্যারা-সাঁতারু মো. শহিদুল্লাহ বলেন, সরকার আমাদের মতো শারীরিক প্রতিবন্ধী খেলোয়াড়দের কষ্ট বুঝতে পেরেছে, এটি আমাদের জন্য অনেক গর্বের।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, ক্রীড়াবিদদের সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ‘ক্রীড়া কার্ড’ একটি শক্তিশালী ঢাল হিসেবে কাজ করবে।

এই উদ্যোগের ফলে দেশের তরুণ প্রজন্ম এখন অনিশ্চয়তা কাটিয়ে খেলাধুলায় আরও বেশি আগ্রহী হবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সাফল্যের পথ প্রশস্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইউনি/শাহোরা/