Dhaka 8:17 am, Monday, 20 April 2026
শিরোনাম :
নরসিংদীতে ৭ বছরের শিশু ধর্ষণ; ধর্ষককে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ নরসিংদীতে অধ্যক্ষকে গণধোলাই: দুর্নীতির অভিযোগে ক্ষোভের বিস্ফোরণ টিকার সংকটে ঝুঁকিতে ৩০ লাখ শিশু, ফিরতে পারে নির্মূল রোগ দেশে উৎপাদিত অকটেন নিচ্ছে না সরকার, তীব্র ভোগান্তিতে জনসাধারণ আজও অপরিবর্তিত সোনার দাম: ভরিতে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে সোনা, বাজুসের নতুন সমন্বয় কার্যকর রবিবার থেকে খুলছে সুপ্রিম কোর্ট, শুরু হবে নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম ইরানের সুবিধাজনক অবস্থান নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য, বাড়ছে উত্তেজনা তেল সংকটে বিশেষ সুবিধা: অগ্রাধিকার পাচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ল্যাম্পার্ডের হাত ধরে ২৫ বছর পর প্রিমিয়ার লিগে ফিরল কভেন্ট্রি সিটি

নরসিংদীতে অধ্যক্ষকে গণধোলাই: দুর্নীতির অভিযোগে ক্ষোভের বিস্ফোরণ

নরসিংদী প্রতিনিধি
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার আদিয়াবাদ স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ নূর সাখাওয়াত হোসেনকে গণধোলাই দিয়েছে স্থানীয় এলাকাবাসী। রবিবার (১৯ এপ্রিল) সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে অধ্যক্ষ নূর সাখাওয়াত হোসেন কলেজে এসে দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী কলেজে গিয়ে তাকে ক্যাম্পাস ত্যাগ করার আহ্বান জানায়। তবে তিনি তাদের কথায় সাড়া না দিয়ে উল্টো তর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উত্তেজিত জনতা তাকে মারধর করে কলেজ থেকে বের করে দেয়।
খবর পেয়ে রায়পুরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রায়পুরার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি আদিয়াবাদ ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার আলোকবর্তিকা হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছে। কিন্তু বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য রাজিউদ্দীন আহম্মদের প্রত্যক্ষ সমর্থনে নূর সাখাওয়াত হোসেনকে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগের পর থেকেই তিনি দলীয় প্রভাব খাটিয়ে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে কলেজের কয়েক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
এছাড়া শিক্ষক ও কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণের প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় অর্ধকোটি টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
এ ধরনের অনিয়মের প্রতিবাদ করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা কেটে নেওয়া বা নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় অধ্যক্ষ নূর সাখাওয়াত হোসেনের নেতৃত্বে আন্দোলন প্রতিহত করতে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নিয়ে কলেজে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলেও জানা যায়।
পরবর্তীতে গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান এবং প্রায় দেড় বছর পলাতক ছিলেন। এ সময় তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীরা মুখ খুলতে শুরু করেন এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে বিভাগীয় তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।
তবে সম্প্রতি তিনি নিজেকে বিএনপির সমর্থক দাবি করে প্রভাব ও অর্থের জোরে পুনর্বহালের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারির পর কলেজে বহিরাগতদের নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে এলাকাবাসী অধ্যক্ষের কক্ষ তালাবদ্ধ করে দেয়। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে তালা খুলে দেওয়া হয়।
এদিকে দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর রবিবার অধ্যক্ষ নূর সাখাওয়াত হোসেন কলেজে উপস্থিত হন। তার এই উপস্থিতি কথা স্থানীয়রা জানতে পেরে দূর্নীতিবাজ এই অধ্যক্ষ কার ইশারায় ও প্রত্যক্ষ মদদে কলেজে ঢুকার সাহস দেখিয়েছে সেটা জানতে কলেজে যায়। অধ্যক্ষকের রুমে ঢুকে তার উদ্দেশ্যে এই প্রশ্নটিই ছুঁড়ে দেন এবং কলেজ ক্যাম্পাস থেকে চলা যাবার কথা বলেন। কিন্তু স্থানীয়দের কথা না শুনে বরং তাদের সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। অধ্যক্ষের উদ্ধ্যতপূর্ণ আচরণে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে গণধোলাই দিয়ে কলেজ থেকে বের করে দেয়।
ইউনি/শাহোরা/
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

News Admin

জনপ্রিয় নিউজ

নরসিংদীতে ৭ বছরের শিশু ধর্ষণ; ধর্ষককে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

নরসিংদীতে অধ্যক্ষকে গণধোলাই: দুর্নীতির অভিযোগে ক্ষোভের বিস্ফোরণ

Update Time : 07:14:59 pm, Sunday, 19 April 2026
নরসিংদী প্রতিনিধি
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার আদিয়াবাদ স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ নূর সাখাওয়াত হোসেনকে গণধোলাই দিয়েছে স্থানীয় এলাকাবাসী। রবিবার (১৯ এপ্রিল) সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে অধ্যক্ষ নূর সাখাওয়াত হোসেন কলেজে এসে দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী কলেজে গিয়ে তাকে ক্যাম্পাস ত্যাগ করার আহ্বান জানায়। তবে তিনি তাদের কথায় সাড়া না দিয়ে উল্টো তর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উত্তেজিত জনতা তাকে মারধর করে কলেজ থেকে বের করে দেয়।
খবর পেয়ে রায়পুরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রায়পুরার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি আদিয়াবাদ ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার আলোকবর্তিকা হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছে। কিন্তু বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য রাজিউদ্দীন আহম্মদের প্রত্যক্ষ সমর্থনে নূর সাখাওয়াত হোসেনকে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগের পর থেকেই তিনি দলীয় প্রভাব খাটিয়ে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে কলেজের কয়েক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
এছাড়া শিক্ষক ও কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণের প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় অর্ধকোটি টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
এ ধরনের অনিয়মের প্রতিবাদ করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা কেটে নেওয়া বা নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় অধ্যক্ষ নূর সাখাওয়াত হোসেনের নেতৃত্বে আন্দোলন প্রতিহত করতে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নিয়ে কলেজে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলেও জানা যায়।
পরবর্তীতে গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান এবং প্রায় দেড় বছর পলাতক ছিলেন। এ সময় তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীরা মুখ খুলতে শুরু করেন এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে বিভাগীয় তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।
তবে সম্প্রতি তিনি নিজেকে বিএনপির সমর্থক দাবি করে প্রভাব ও অর্থের জোরে পুনর্বহালের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারির পর কলেজে বহিরাগতদের নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে এলাকাবাসী অধ্যক্ষের কক্ষ তালাবদ্ধ করে দেয়। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে তালা খুলে দেওয়া হয়।
এদিকে দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর রবিবার অধ্যক্ষ নূর সাখাওয়াত হোসেন কলেজে উপস্থিত হন। তার এই উপস্থিতি কথা স্থানীয়রা জানতে পেরে দূর্নীতিবাজ এই অধ্যক্ষ কার ইশারায় ও প্রত্যক্ষ মদদে কলেজে ঢুকার সাহস দেখিয়েছে সেটা জানতে কলেজে যায়। অধ্যক্ষকের রুমে ঢুকে তার উদ্দেশ্যে এই প্রশ্নটিই ছুঁড়ে দেন এবং কলেজ ক্যাম্পাস থেকে চলা যাবার কথা বলেন। কিন্তু স্থানীয়দের কথা না শুনে বরং তাদের সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। অধ্যক্ষের উদ্ধ্যতপূর্ণ আচরণে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে গণধোলাই দিয়ে কলেজ থেকে বের করে দেয়।
ইউনি/শাহোরা/