Dhaka 3:47 pm, Sunday, 19 April 2026
শিরোনাম :
টিকার সংকটে ঝুঁকিতে ৩০ লাখ শিশু, ফিরতে পারে নির্মূল রোগ দেশে উৎপাদিত অকটেন নিচ্ছে না সরকার, তীব্র ভোগান্তিতে জনসাধারণ আজও অপরিবর্তিত সোনার দাম: ভরিতে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে সোনা, বাজুসের নতুন সমন্বয় কার্যকর রবিবার থেকে খুলছে সুপ্রিম কোর্ট, শুরু হবে নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম ইরানের সুবিধাজনক অবস্থান নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য, বাড়ছে উত্তেজনা তেল সংকটে বিশেষ সুবিধা: অগ্রাধিকার পাচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ল্যাম্পার্ডের হাত ধরে ২৫ বছর পর প্রিমিয়ার লিগে ফিরল কভেন্ট্রি সিটি নোয়াখালীতে ডিবির অভিযানে ১৪০০ লিটার অবৈধ ডিজেল উদ্ধার, আটক ৪ মার্কিন অবরোধ না তুললে হরমুজ আবার বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের

টিকার সংকটে ঝুঁকিতে ৩০ লাখ শিশু, ফিরতে পারে নির্মূল রোগ

দেশে টিকাদান কর্মসূচিতে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটায় অন্তত ৩০ লাখ শিশু মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে। সময়মতো টিকা না পাওয়া বা টিকা থেকে বঞ্চিত হওয়াই এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

একসময় দেশে নির্মূল হওয়া পোলিও ও নবজাতকের ধনুষ্টংকার আবার ফিরে আসার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি নির্মূলের দ্বারপ্রান্তে থাকা হাম, রুবেলা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি ও রাতকানা রোগও নতুন করে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, টিকা কেনায় সংকট, সরবরাহ ব্যবস্থার জটিলতা এবং স্বাস্থ্য সহকারীদের আন্দোলনের কারণে মাঠপর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে গত কয়েক বছরে টিকাবঞ্চিত শিশুর সংখ্যা দ্রুত বেড়ে প্রায় ৩০ লাখে পৌঁছেছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে টিকাদানের হার নেমে আসে ৫৯.৬০ শতাংশে, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ওই বছরেই প্রায় ১৬ লাখের বেশি শিশু টিকা পায়নি।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশে হামের বড় প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। অনেক শিশু আক্রান্ত হচ্ছে এবং মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। তারা বলেন, একটি শিশু হাম আক্রান্ত হলে তা থেকে আরও ১৭-১৮ জনে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। এই রোগ প্রতিরোধে কমপক্ষে ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা জরুরি।

এদিকে, এক বছরের বেশি সময় ধরে ভিটামিন-এ ক্যাম্পেইন বন্ধ থাকায় শিশুদের পুষ্টিহীনতা ও অন্ধত্বের ঝুঁকিও বাড়ছে।

জনবল সংকটও এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। দেশের প্রায় ৪৫ শতাংশ স্বাস্থ্য সহকারীর পদ খালি থাকায় অনেক এলাকায় টিকাদান কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করে এবং টিকাদান কার্যক্রম জোরদার না করলে দেশে আবারও বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য সংকট তৈরি হতে পারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

News Admin

জনপ্রিয় নিউজ

টিকার সংকটে ঝুঁকিতে ৩০ লাখ শিশু, ফিরতে পারে নির্মূল রোগ

টিকার সংকটে ঝুঁকিতে ৩০ লাখ শিশু, ফিরতে পারে নির্মূল রোগ

Update Time : 06:26:55 am, Sunday, 19 April 2026

দেশে টিকাদান কর্মসূচিতে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটায় অন্তত ৩০ লাখ শিশু মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে। সময়মতো টিকা না পাওয়া বা টিকা থেকে বঞ্চিত হওয়াই এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

একসময় দেশে নির্মূল হওয়া পোলিও ও নবজাতকের ধনুষ্টংকার আবার ফিরে আসার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি নির্মূলের দ্বারপ্রান্তে থাকা হাম, রুবেলা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি ও রাতকানা রোগও নতুন করে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, টিকা কেনায় সংকট, সরবরাহ ব্যবস্থার জটিলতা এবং স্বাস্থ্য সহকারীদের আন্দোলনের কারণে মাঠপর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে গত কয়েক বছরে টিকাবঞ্চিত শিশুর সংখ্যা দ্রুত বেড়ে প্রায় ৩০ লাখে পৌঁছেছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে টিকাদানের হার নেমে আসে ৫৯.৬০ শতাংশে, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ওই বছরেই প্রায় ১৬ লাখের বেশি শিশু টিকা পায়নি।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশে হামের বড় প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। অনেক শিশু আক্রান্ত হচ্ছে এবং মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। তারা বলেন, একটি শিশু হাম আক্রান্ত হলে তা থেকে আরও ১৭-১৮ জনে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। এই রোগ প্রতিরোধে কমপক্ষে ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা জরুরি।

এদিকে, এক বছরের বেশি সময় ধরে ভিটামিন-এ ক্যাম্পেইন বন্ধ থাকায় শিশুদের পুষ্টিহীনতা ও অন্ধত্বের ঝুঁকিও বাড়ছে।

জনবল সংকটও এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। দেশের প্রায় ৪৫ শতাংশ স্বাস্থ্য সহকারীর পদ খালি থাকায় অনেক এলাকায় টিকাদান কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করে এবং টিকাদান কার্যক্রম জোরদার না করলে দেশে আবারও বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য সংকট তৈরি হতে পারে।