Dhaka 9:21 pm, Wednesday, 29 April 2026
শিরোনাম :
ইরান যুদ্ধ নিয়ে কংগ্রেসে তলব: প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হচ্ছে সয়াবিন তেলের মূল্যবৃদ্ধি জনস্বার্থ পরিপন্থি : বাংলাদেশ ন্যাপ   মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অসম বাণিজ্য চুক্তি: সংসদে আলোচনার দাবি, ক্ষোভ প্রকাশ স্কুলছাত্রী অদিতা হত্যা: গৃহশিক্ষকের ফাঁসির আদেশ ডলারের বাজারে ইয়েনের চাপ, অনিশ্চয়তায় বৈশ্বিক মুদ্রাবাজার নরসিংদীতে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০২৬ পালিত কোস্ট গার্ডকে আধুনিক ও যুগোপযোগী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উচ্চশিক্ষায় সরকারের অগ্রাধিকার হিট প্রকল্পের সংশোধিত ডিপিপিতে যুক্ত করার পরামর্শ ইউজিসি চেয়ারম্যানের ভূগর্ভস্থ পানি নয়, এখনই ভূ-উপরিস্থ পানির দিকে যেতে হবে: এলজিআরডি মন্ত্রী স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

ডলারের বাজারে ইয়েনের চাপ, অনিশ্চয়তায় বৈশ্বিক মুদ্রাবাজার

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান উত্তেজনার প্রভাবে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বাড়ছে চাপ। জ্বালানি সংকট ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন ডলারের বিপরীতে জাপানি মুদ্রা ইয়েন গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে চলে এসেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বুধবার বৈশ্বিক বাজারে ডলারের দর সামান্য বেড়েছে। বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের নজর যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড)-এর সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের দিকে। একই সঙ্গে ফেড চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়েও আলোচনা চলছে।

এদিকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত এবং বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর আয় প্রতিবেদন প্রকাশকে ঘিরেও বাজারে সতর্কতা বিরাজ করছে।

মুদ্রাবাজারে ডলারের বিপরীতে ইউরোর মান ০.০৭ শতাংশ কমে ১.১৭০৫ ডলারে নেমেছে। ব্রিটিশ পাউন্ডও ০.০৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১.৩৫১৩ ডলারে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউরোর মান প্রায় ১ শতাংশ কমেছে, যদিও পাউন্ড তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, ফেড এবার সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি অর্থনীতিতে কী প্রভাব ফেলছে এবং ভবিষ্যতে নীতিনির্ধারণে কী পরিবর্তন আসতে পারে, সেটিই এখন মূল আলোচ্য বিষয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাবে অসন্তোষ প্রকাশ করায় যুদ্ধবিরতির আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ বেড়েছে। টানা অষ্টম দিনের মতো তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১১২ ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২২ সালের পর অন্যতম উচ্চ পর্যায়।

এই পরিস্থিতিতে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ডলারের চাহিদা বাড়ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, তেলের দাম বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ইউরোপ ও এশিয়ার অর্থনীতি তুলনামূলক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

অন্যদিকে, ডলারের বিপরীতে জাপানি ইয়েন ১৬০-এর কাছাকাছি অবস্থানে ঘোরাফেরা করছে। এতে বাজারে সম্ভাব্য সরকারি হস্তক্ষেপ নিয়ে জল্পনা বাড়ছে। বুধবার ইয়েনের বিনিময় হার প্রায় অপরিবর্তিত থেকে ১৫৯.৬৩ এ অবস্থান করেছে।

ব্যাংক অব জাপান সুদের হার বাড়ানোর ইঙ্গিত দিলেও মুদ্রাটির শক্তিশালী পুনরুদ্ধার দেখা যায়নি। চলতি মাসে ইয়েন ডলারের বিপরীতে প্রায় ০.৬ শতাংশ এবং যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ২ শতাংশের বেশি মূল্য হারিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা এবং মূল্যস্ফীতির চাপ ইয়েনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তবে প্রয়োজন হলে বাজারে হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ইয়েনের পতন ঠেকাতে পারে জাপান সরকার।

সব মিলিয়ে, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বৈশ্বিক মুদ্রাবাজারে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

News Admin

জনপ্রিয় নিউজ

ইরান যুদ্ধ নিয়ে কংগ্রেসে তলব: প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হচ্ছে

ডলারের বাজারে ইয়েনের চাপ, অনিশ্চয়তায় বৈশ্বিক মুদ্রাবাজার

Update Time : 01:48:13 pm, Wednesday, 29 April 2026

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান উত্তেজনার প্রভাবে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বাড়ছে চাপ। জ্বালানি সংকট ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন ডলারের বিপরীতে জাপানি মুদ্রা ইয়েন গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে চলে এসেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বুধবার বৈশ্বিক বাজারে ডলারের দর সামান্য বেড়েছে। বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের নজর যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড)-এর সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের দিকে। একই সঙ্গে ফেড চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়েও আলোচনা চলছে।

এদিকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত এবং বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর আয় প্রতিবেদন প্রকাশকে ঘিরেও বাজারে সতর্কতা বিরাজ করছে।

মুদ্রাবাজারে ডলারের বিপরীতে ইউরোর মান ০.০৭ শতাংশ কমে ১.১৭০৫ ডলারে নেমেছে। ব্রিটিশ পাউন্ডও ০.০৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১.৩৫১৩ ডলারে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউরোর মান প্রায় ১ শতাংশ কমেছে, যদিও পাউন্ড তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, ফেড এবার সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি অর্থনীতিতে কী প্রভাব ফেলছে এবং ভবিষ্যতে নীতিনির্ধারণে কী পরিবর্তন আসতে পারে, সেটিই এখন মূল আলোচ্য বিষয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাবে অসন্তোষ প্রকাশ করায় যুদ্ধবিরতির আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ বেড়েছে। টানা অষ্টম দিনের মতো তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১১২ ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২২ সালের পর অন্যতম উচ্চ পর্যায়।

এই পরিস্থিতিতে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ডলারের চাহিদা বাড়ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, তেলের দাম বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ইউরোপ ও এশিয়ার অর্থনীতি তুলনামূলক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

অন্যদিকে, ডলারের বিপরীতে জাপানি ইয়েন ১৬০-এর কাছাকাছি অবস্থানে ঘোরাফেরা করছে। এতে বাজারে সম্ভাব্য সরকারি হস্তক্ষেপ নিয়ে জল্পনা বাড়ছে। বুধবার ইয়েনের বিনিময় হার প্রায় অপরিবর্তিত থেকে ১৫৯.৬৩ এ অবস্থান করেছে।

ব্যাংক অব জাপান সুদের হার বাড়ানোর ইঙ্গিত দিলেও মুদ্রাটির শক্তিশালী পুনরুদ্ধার দেখা যায়নি। চলতি মাসে ইয়েন ডলারের বিপরীতে প্রায় ০.৬ শতাংশ এবং যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ২ শতাংশের বেশি মূল্য হারিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা এবং মূল্যস্ফীতির চাপ ইয়েনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তবে প্রয়োজন হলে বাজারে হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ইয়েনের পতন ঠেকাতে পারে জাপান সরকার।

সব মিলিয়ে, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বৈশ্বিক মুদ্রাবাজারে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে।