বায়ু ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে রাজধানী থেকে ফিটনেসবিহীন ও পরিবেশ দূষণকারী যানবাহন অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দূষণ রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ইটভাটাজনিত দূষণ, অতিরিক্ত হর্নের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কঠোর হওয়ার জন্য গুরুত্বারোপ করেছেন।
শনিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পরিবেশ দূষণবিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সভাপতিত্বকালে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। বৈঠকে দেশের বায়ু ও শব্দদূষণের বর্তমান পরিস্থিতি এবং তা নিয়ন্ত্রণে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিসুর রহমানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সভায় ইটভাটার কারণে সৃষ্ট বায়ুদূষণ কমাতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী পরিবেশবান্ধব বিকল্প প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইট উৎপাদনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।
রাজধানীতে যানবাহনের অতিরিক্ত হর্ন ব্যবহারের কারণে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া নিয়েও আলোচনা হয়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে এ বিষয়ে আরও কঠোরভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ক্যামেরার আদলে হর্ন নিয়ন্ত্রণেও এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা ও কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া রাজধানীর সড়ক থেকে ফিটনেসবিহীন, মেয়াদোত্তীর্ণ ও পরিবেশ দূষণকারী বাস, ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন দ্রুত অপসারণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।
নগরীর যানজট কমানো ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে ঢাকার আরও অন্তত ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অটোমেটিক ট্রাফিক লাইট সিস্টেম চালুর নির্দেশ দেন তিনি।