• বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৯ পূর্বাহ্ন

নিত্যপণ্যের দামে লাগাম টানা যাচ্ছে না

বাণিজ্য ডেস্ক / ১১১ Time View
Update : শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬

ভোগ্যপণ্যের দামের লাগাম যেন থামানোই যাচ্ছেনা। এক পণ্যের কিছুটা কমলে বাকিপণ্যের দাম যেন তর তর করে বাড়তে থাকে। দীর্ঘ সময় থেকে দেশের বাজারগুলো পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকায় ভোক্তা সাধারণের চাপ বাড়ছেই। বিশেষ করে মধ্যভিত্ত ও নিন্ম ভিত্তের চাপের খরচ সামাল দিতে না পেরে পাত থেকে অনেক খাবার তুলে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন।

সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারে মুরগির দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও বেড়েছ অন্য সব পণ্যের দাম। বিশেষ করে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম কমেছে। তবে, একই সময়ে চিকন চালের দাম বাড়ায় বাজারে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে রাজধানীর কাপ্তান বাজার, লালবাগ ও নবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

মুরগির বাজারে সবচেয়ে বড় স্বস্তি এসেছে ব্রয়লারে। গত সপ্তাহে রাজধানীর বাজারে ব্রয়লার মুরগি ১৯৫ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এখন তা ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকায় নেমেছে। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১৫ টাকা পর্যন্ত কমেছে। সোনালি মুরগির দামও কমেছে। গত সপ্তাহে ৩০০ থেকে ৩৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া সোনালি এখন ২৬০ থেকে ২৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। বড় সোনালি মুরগির ক্ষেত্রে গত সপ্তাহের ৩৪০ টাকা দরের বিপরীতে এখন ২৮০ টাকায় বিক্রির তথ্যও পাওয়া গেছে।

এর আগে, বুধবার (১৯ আগস্ট) পর্যন্ত ব্রয়লার ২০০ টাকা, সোনালি ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছিল।

মাছের বাজারে রুই ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা, শিং ও টাকি ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং শোল ৪০০ থেকে ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তেলাপিয়া ও পাঙাশের দাম ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা।

ইলিশের ক্ষেত্রেও আকারভেদে বড় পার্থক্য রয়েছে। এক কেজি ওজনের ইলিশ ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা এবং ছোট ইলিশ ৫০০ থেকে ৬০০ এমনকি ৮০০ টাকা দরেও বিক্রি হচ্ছে।

সবজির বাজারে, আলু ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাকা টমেটো ১২০ টাকা, বরবটি ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে দেখা গেছে ব্যবসায়ীদের। ফুলকপি ৬০ থেকে ৮০ টাকা পিস দরে বিক্রি হচ্ছে। বিচি ছাড়া শিম ১০০ টাকা এবং বিচি শিম ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। মুলা ও শালগম ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে। লালশাক ও মুলাশাকের আঁটি ১০ থেকে ১৫ টাকা এবং পালংশাকের আঁটি ১৫ থেকে ২০ টাকা। ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে গাজর, শসা, টমেটো, কাঁচা মরিচসহ কয়েকটি সবজি।

মাছ-মাংস ও সবজির পাশাপাশি চালের বাজারেও পরিবর্তন এসেছে। গত এক সপ্তাহে মিনিকেট চালের দাম কেজিতে প্রায় ২ টাকা বেড়েছে। খুচরা বাজারে মিনিকেট চাল ৬৫ টাকা পর্যন্ত কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন মানের মিনিকেট চালের বস্তার দাম ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত এবং আমদানি করা মিনিকেট চালের বস্তা ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। মোটা চালের ক্ষেত্রে রাব্বি-২৮-এর ৫০ কেজির বস্তা ২ হাজার ৪৫০ টাকা এবং তাজমহল ২ হাজার ৩৫০ টাকা দরে বিক্রির তথ্যও পাওয়া গেছে।

এছাড়া, বিআর-২৮ চাল ৬০ টাকা, মিনিকেট ৭২ টাকা এবং নাজিরশাইল ৮৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

চাল ব্যবসায়ী মোজাম্মেল বলেন, “অনেক হাত বদল হয়ে চাল ক্রেতার হাতে যায়। পরিবহনেও নানান ধাপে খরচ বেড়েছে। এজন্য চালের দাম অনেক সময় ২ টাকা বাড়ে বা কমে। তবে সুযোগ থাকলে আমরা চেষ্টা করি কমানোর। খরচ বেড়ে সেটা সম্ভব হয় না।”

চালের বিপরীতে পেঁয়াজের বাজারে কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। পেঁয়াজের দাম কমলেও আবার আদার বাজারে উল্টো চাপ রয়েছে। রাজধানীর কারওয়ান বাজারের পাইকারি বাজারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চীনা ও ভারতীয় আদার দাম রোজার সময়ের তুলনায় কেজিতে ৬০ থেকে ৭০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

রসুন দেশি ১০০ টাকা, বিদেশি ১৫০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে। পেঁয়াজ মান ভেদে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। এছাড়া আদা, মসলা ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামেও ওঠানামা করতে দেখা যাচ্ছে। ফলে মাংসের বাজারে মুরগির দামে স্বস্তি এলেও রান্নার অন্যান্য উপকরণে সেই স্বস্তি পুরোপুরি মিলছে না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category