বিশ্বকাপ ফুটবলের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত অর্জন নিঃসন্দেহে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি। প্রায় ৩৭ সেন্টিমিটার উচ্চতা ও প্রায় ১৪ পাউন্ড ওজনের সোনালি এই ট্রফিকে ঘিরে জমে ওঠে ফুটবলের মহারণ। তবে দলীয় সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত অর্জনেরও থাকে আলাদা গুরুত্ব। দৃষ্টিনন্দন গোল, হ্যাটট্রিক কিংবা অনন্য সব রেকর্ডের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের উজ্জ্বল করে তোলেন ফুটবলাররা।
এমনই একটি মর্যাদাপূর্ণ রেকর্ড হলো বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার স্বীকৃতি। ২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্বাগতিক ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচের ২৩তম মিনিটে গোল করে ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদোর রেকর্ড ভেঙেছিলেন জার্মান ফরোয়ার্ড মিরোস্লাভ ক্লোসা। সেটিই ছিল বিশ্বকাপে তার ১৬তম গোল। এর আগে রোনালদোর দখলে ছিল ১৫ গোলের রেকর্ড।
২০১৪ সালেই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানান ক্লোসা। এরপর কেটে গেছে এক যুগেরও বেশি সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার সেই রেকর্ড এখনো অটুট রয়েছে। তবে ২০২২ বিশ্বকাপে নিজের ১৩তম গোল করে রেকর্ডের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন আর্জেন্টিনার মহাতারকা লিওনেল মেসি। ক্লোসাকে স্পর্শ করতে তার প্রয়োজন আরও তিন গোল, আর রেকর্ড নিজের করে নিতে দরকার চারটি গোল। অন্যদিকে ১২ গোল নিয়ে তার ঠিক পেছনেই অবস্থান করছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে।
ফলে আসন্ন বিশ্বকাপে মেসি ও এমবাপে, দুজনের সামনেই রয়েছে ক্লোসার রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়ার সুযোগ। ব্যক্তিগত এই লড়াই বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে। রেকর্ড ভাঙতে মেসির প্রয়োজন চার গোল, আর এমবাপের দরকার পাঁচটি।
বিশ্বকাপ চলাকালেই ৩৯ বছরে পা দেবেন মেসি। অনেকের ধারণা, এটিই হতে পারে তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। অভিজ্ঞতা, অসাধারণ ফিনিশিং ও সৃজনশীলতার ছোঁয়ায় আরও একবার ইতিহাস লেখার স্বপ্ন দেখছেন এই আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি।
অন্যদিকে ২৭ বছর বয়সী এমবাপে ফ্রান্সের জার্সিতে খেলতে যাচ্ছেন নিজের তৃতীয় বিশ্বকাপ। গতি, শক্তি ও গোল করার সহজাত দক্ষতায় তিনি ইতোমধ্যেই নিজেকে প্রমাণ করেছেন। মাত্র দুটি বিশ্বকাপ আসরে ১২ গোল করে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন বড় মঞ্চে নিজেকে কীভাবে উজাড় করে দিতে হয়। অনেক ফুটবল বিশ্লেষকের মতে, ক্লোসার রেকর্ড ভাঙার সবচেয়ে যোগ্য দাবিদার এখন এমবাপেই।
ফ্রান্সের তারুণ্যনির্ভর ও শক্তিশালী আক্রমণভাগ এমবাপেকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে বলেও মনে করছেন অনেকে। তবে মেসির জাদুকরী সামর্থ্যকে কখনোই খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। মজার বিষয় হলো, ক্লোসা নিজেও বিশ্বাস করেন তার রেকর্ড মেসি কিংবা এমবাপের মধ্য থেকেই কেউ একজন ভাঙবেন।
তাই বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ এখন তুঙ্গে, এবারের বিশ্বকাপে কি দেখা যাবে নতুন কোনো ইতিহাস? মেসি-এমবাপের এই রেকর্ডের লড়াই সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই মুখিয়ে আছে ফুটবলবিশ্ব।
এবারের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া অন্যান্য ফুটবলারের মধ্যে মেসি ও এমবাপের সবচেয়ে কাছাকাছি আছেন পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তার বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা ৮। ক্লোসার রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে হলে তাকে করতে হবে আরও ৯ গোল। ব্রাজিলের নেইমার এবং ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইনের ঝুলিতেও রয়েছে ৮টি করে গোল।
সে হিসেবে মেসি ও এমবাপে ছাড়া অন্য কোনো ফুটবলারের পক্ষে ক্লোসার রেকর্ড ভাঙা তুলনামূলকভাবে কঠিন বলেই মনে করা হচ্ছে। নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দ ধরে রাখতে পারলে মেসি কিংবা এমবাপে, দুজনের যেকোনো একজনের পক্ষেই বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসা সম্ভব। এমনকি দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে দুজনই ক্লোসার রেকর্ড অতিক্রম করার সুযোগও পেতে পারেন।