বিশ্ববাজারে টানা দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো কমেছে স্বর্ণের দাম। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা এবং মার্কিন সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনাকে এ দরপতনের প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
শুক্রবার (২২ মে) আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ০.৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫১৫ দশমিক ৮৩ ডলারে নেমে আসে। সপ্তাহজুড়ে স্বর্ণের দাম কমেছে প্রায় ০.৪ শতাংশ। একই সময়ে মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার মূল্যও কমে দাঁড়িয়েছে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫২৩ দশমিক ২০ ডলারে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার শান্তি আলোচনা অগ্রগতি না হওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। এতে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে। আর মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন ধারণা থেকেই স্বর্ণবাজারে চাপ তৈরি হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষক রোনা ও’কানেল বলেন, হরমুজ প্রণালির অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। ফলে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবেও স্বর্ণে আগ্রহ কিছুটা কমে যাচ্ছে।
অন্যদিকে মার্কিন ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা প্রায় এক বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এতে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণে বিনিয়োগের আকর্ষণ কমছে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সিএমই গ্রুপের ‘ফেডওয়াচ’ টুলের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা দেখছেন বেশিরভাগ ব্যবসায়ী।
এদিকে স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। স্পট সিলভারের দাম কমে প্রতি আউন্স ৭৫ দশমিক ৮৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া প্ল্যাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও সপ্তাহজুড়ে নিম্নমুখী ছিল।