Dhaka 1:48 am, Wednesday, 1 April 2026
শিরোনাম :
পরকীয়ার জেরে স্বামীকে হত্যা; সন্তানদের নিয়ে মরদেহের পাশে রাতযাপন প্রধানমন্ত্রীর ‘ক্রীড়া কার্ড’ পেয়ে আবেগাপ্লুত খেলোয়াড়রা সিঙ্গাপুরের কাছে হেরে বাংলাদেশের স্বপ্নভঙ্গ স্কুল চলাকালীন যানজট নিরসনে শিক্ষামন্ত্রীকে বিকল্প খুঁজতে বললেন প্রধানমন্ত্রী শ্রবণশক্তি হারিয়ে গান থেকে অনেকটা দূরে সরে এলের অলকা নরসিংদী জেলা বিএনপির সহ সভাপতি তোফাজ্জল হোসেনকে জেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগ বাড়ছে না জ্বালানি তেলের দাম আজ জানা যাবে জ্বালানী তেলের নতুন দাম বর্জ্যমুক্ত ঢাকা গড়তে নাগরিক ও সিটি কর্পোরেশনের যৌথ অংশীদারিত্বের বিকল্প নেই: ডিএসসিসি প্রশাসক পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রীর সাথে এডিবি কান্ট্রি ডিরেক্টর এর সাক্ষাৎ

মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদা রক্ষা করে উন্নয়নের পথে এগোতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক 

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “মুক্তিযুদ্ধের গৌরব ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে হবে। অতীতের শিক্ষা ধারণ করে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।”

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যের শুরুতে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানসহ সব বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জাতীয় নেতাদের অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অতীত নিয়ে সব সময় পড়ে থাকলে একচোখ অন্ধ, আর অতীতকে ভুলে গেলে দু’চোখই অন্ধ। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ভুলে যাওয়া যাবে না, তবে অতিরিক্ত অতীতচর্চা যেন দেশের সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎকে বাধাগ্রস্ত না করে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।”

তিনি বলেন, “স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের সবচেয়ে গৌরবজনক অধ্যায়। এ ইতিহাস নিয়ে গবেষণা ও আলোচনা চলবে। তবে, এমন কিছু বলা বা করা উচিত নয়, যা এই গৌরবময় ইতিহাসকে খাটো করে।”

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, “জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের অনিবার্য চরিত্র। জিয়াউর রহমানের অবদান খাটো করার চেষ্টা অতীতে হলেও ইতিহাসের দলিল তা সমর্থন করে না।”

জিয়াউর রহমানের লেখা ‘একটি জাতির জন্ম’ প্রবন্ধের উল্লেখ করে তার ছেলে তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন তিনি অনেক আগে থেকেই লালন করতেন।”

স্বাধীনতার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যেসব জাতি স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছে, তারাই স্বাধীনতার প্রকৃত মূল্য উপলব্ধি করতে পারে।” একই সঙ্গে তিনি গণতন্ত্র রক্ষায় জনগণের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন।

তারেক রহমান বলেন, “দেশের সম্পদ সীমিত হলেও ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে উন্নয়ন সম্ভব।”

বর্তমান সরকার জনগণের সরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, “মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।”

সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সমাজের একটি অংশ নয়, বরং সকলকে নিয়ে আমরা ভালো থাকব—এটাই হোক স্বাধীনতা দিবসের অঙ্গীকার।”

বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে দলটির প্রচার সম্পাদক ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ওবায়দুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মামুন আহমেদ, অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুব উল্লাহ, শিক্ষাবিদ ওয়াকিল আহমেদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ, পরিকল্পনা ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম খান, ড. মঈন খান, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রমুখ।

ইউনি/ শাহোরা/

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

News Admin

জনপ্রিয় নিউজ

পরকীয়ার জেরে স্বামীকে হত্যা; সন্তানদের নিয়ে মরদেহের পাশে রাতযাপন

মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদা রক্ষা করে উন্নয়নের পথে এগোতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

Update Time : 02:32:55 pm, Saturday, 28 March 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক 

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “মুক্তিযুদ্ধের গৌরব ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে হবে। অতীতের শিক্ষা ধারণ করে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।”

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যের শুরুতে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানসহ সব বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জাতীয় নেতাদের অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অতীত নিয়ে সব সময় পড়ে থাকলে একচোখ অন্ধ, আর অতীতকে ভুলে গেলে দু’চোখই অন্ধ। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ভুলে যাওয়া যাবে না, তবে অতিরিক্ত অতীতচর্চা যেন দেশের সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎকে বাধাগ্রস্ত না করে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।”

তিনি বলেন, “স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের সবচেয়ে গৌরবজনক অধ্যায়। এ ইতিহাস নিয়ে গবেষণা ও আলোচনা চলবে। তবে, এমন কিছু বলা বা করা উচিত নয়, যা এই গৌরবময় ইতিহাসকে খাটো করে।”

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, “জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের অনিবার্য চরিত্র। জিয়াউর রহমানের অবদান খাটো করার চেষ্টা অতীতে হলেও ইতিহাসের দলিল তা সমর্থন করে না।”

জিয়াউর রহমানের লেখা ‘একটি জাতির জন্ম’ প্রবন্ধের উল্লেখ করে তার ছেলে তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন তিনি অনেক আগে থেকেই লালন করতেন।”

স্বাধীনতার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যেসব জাতি স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছে, তারাই স্বাধীনতার প্রকৃত মূল্য উপলব্ধি করতে পারে।” একই সঙ্গে তিনি গণতন্ত্র রক্ষায় জনগণের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন।

তারেক রহমান বলেন, “দেশের সম্পদ সীমিত হলেও ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে উন্নয়ন সম্ভব।”

বর্তমান সরকার জনগণের সরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, “মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।”

সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সমাজের একটি অংশ নয়, বরং সকলকে নিয়ে আমরা ভালো থাকব—এটাই হোক স্বাধীনতা দিবসের অঙ্গীকার।”

বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে দলটির প্রচার সম্পাদক ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ওবায়দুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মামুন আহমেদ, অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুব উল্লাহ, শিক্ষাবিদ ওয়াকিল আহমেদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ, পরিকল্পনা ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম খান, ড. মঈন খান, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রমুখ।

ইউনি/ শাহোরা/