দীর্ঘ ১৪০৪ দিন পর ওয়ানডে একাদশে ফিরে স্বপ্নের মতো প্রত্যাবর্তন করলেন মোসাদ্দেক হোসেন। জাতীয় দলে অলরাউন্ডার হিসেবে নিজের অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল তাকে। তবে নতুন করে নিজেকে প্রমাণের সুযোগ পেয়েই ব্যাট ও বল হাতে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে স্মরণীয় করে রাখলেন এই প্রত্যাবর্তন। তার অলরাউন্ড পারফরম্যান্সেই ২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ।
মিরপুরে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৮৪ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ অপরাজিত ৮৬ রান আসে মোসাদ্দেকের ব্যাট থেকে। জবাবে অস্ট্রেলিয়া ৪২ ওভার ২ বলে ৯ উইকেটে ১৯১ রান তুলতেই বজ্রপাত ও বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। পরে আর ম্যাচ মাঠে না গড়ালে ডিএল মেথডে ৮৬ রানের জয় পায় টাইগাররা।
বাংলাদেশের ইনিংসে কঠিন মুহূর্তে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন মোসাদ্দেক। পরিস্থিতি বুঝে পরিণত ব্যাটিং করার পাশাপাশি শেষ দিকে খেলেছেন আগ্রাসী ইনিংস। ৭টি চার ও ৩টি ছক্কায় সাজানো তার অপরাজিত ৮৬ রানের ইনিংস বাংলাদেশকে এনে দেয় শক্তিশালী সংগ্রহ। বিশেষ করে স্লগ ওভারে একজন আদর্শ ফিনিশারের ভূমিকাই পালন করেছেন তিনি। নিজে রান করার পাশাপাশি লেজের সারির ব্যাটারদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটিও গড়েছেন।
ব্যাট হাতে অবদান রাখার পর বল হাতেও ছিলেন সমান কার্যকর। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ১০ ওভারে মাত্র ৩৭ রান খরচ করে তুলে নেন ২টি উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ জুটি ভেঙে দলকে এনে দেন প্রয়োজনীয় ব্রেকথ্রু। দীর্ঘদিন পর সুযোগ পেয়েই তাই বাংলাদেশের জয়ের অন্যতম নায়ক হয়ে ওঠেন এই অলরাউন্ডার।
দুর্দান্ত এই পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ম্যাচসেরার পুরস্কারও ওঠে মোসাদ্দেকের হাতে। চার বছর পর জাতীয় দলে ফিরে এমন সাফল্যে যেন নতুন করে নিজের ক্যারিয়ারের সূচনা করলেন তিনি। ম্যাচ শেষে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে মোসাদ্দেক বলেন, “প্রথমবার যখন জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছিলাম, ফিলিংসটা ঠিক একই রকম ছিল।”